প্রবাসীদের এনআইডি আবেদন

প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা স্মার্ট কার্ড প্রাপ্তি এখন আগের চেয়ে সহজ হয়েছে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন বিশ্বের ৬টি দেশে এই সেবা চালু করেছে। তবে, আবেদনে সামান্য ভুল হলেই দেখা দিতে পারে বড় বিপত্তি – সমাধান পেতে দেশে ফেরার বাধ্যবাধকতা। এই বিষয়টি প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
আবেদনে ভুল হলে কেন দেশে আসতে হবে?
চলতি বছরের মে মাস থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবাসীদের এনআইডি নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কিন্তু প্রবাস থেকে করা আবেদনে কোনো প্রকার তথ্যগত ভুল থাকলে বা ঘাটতি দেখা দিলে, তা সংশোধনের সুযোগ প্রবাসে থাকছে না। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ভুলের সংশোধন বা নতুন করে আবেদন করতে হলে আবেদনকারীকে সশরীরে বাংলাদেশে উপস্থিত হতে হবে।
আরব আমিরাতে ইতোমধ্যে প্রায় ৭০০ প্রবাসী এনআইডি নিবন্ধনের জন্য তাদের তথ্য ও বায়োমেট্রিক জমা দিয়েছেন। দূতাবাস কর্তৃক গঠিত একটি কমিটি এই তথ্য যাচাই-বাছাই করবে। কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষেই কেবল এনআইডি বা স্মার্ট কার্ড ইস্যু করা হবে। যাদের আবেদনে ভুল বা তথ্যের ঘাটতি পাওয়া যাবে, তাদের আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে এবং দেশে এসে পুনরায় আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
প্রবাস থেকে যেভাবে এনআইডি আবেদন করবেন:
প্রবাস থেকে এনআইডি আবেদনের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট ধাপ অনুসরণ করতে হয়:
১. দূতাবাসে খোঁজ নিন: প্রথমে নিশ্চিত হয়ে নিন আপনার বসবাসরত দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে এনআইডি নিবন্ধন কার্যক্রম চালু হয়েছে কিনা।
২. অনলাইনে আবেদন: নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করুন।
৩. দূতাবাসে যোগাযোগ: নির্দিষ্ট তারিখে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, যেমন – জন্ম নিবন্ধন সনদ, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ (যদি থাকে), এবং পাসপোর্টের কপিসহ দূতাবাসে উপস্থিত হোন।
৪. বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান: দূতাবাসে ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ স্ক্যানসহ বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান করতে হবে।
৫. আবেদন অনুমোদন ও সংগ্রহ: আবেদন সফলভাবে গৃহীত ও অনুমোদিত হলে আপনার মোবাইলে এসএমএস-এর মাধ্যমে জানানো হবে। এসএমএস-এ প্রদত্ত লিংকে ক্লিক করে আপনি আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র ডাউনলোড করতে পারবেন। পরবর্তীতে আপনার স্মার্ট কার্ড প্রিন্ট করে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে পাঠানো হবে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জন্ম নিবন্ধন ও শিক্ষা সনদে নামের বানান একই হতে হবে। আবেদনকারীকে অবশ্যই সে দেশে বৈধভাবে বসবাসরত বাংলাদেশী নাগরিক হতে হবে। আরব আমিরাত থেকে এনআইডি নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে কোনো ফি দিতে না হলেও, দূতাবাসের সার্ভিস চার্জ বাবদ ৫০ দিরহাম পরিশোধ করতে হবে।
কোন কোন দেশে এই সেবা চালু আছে?
বর্তমানে নিম্নলিখিত দেশগুলোতে বসবাসরত প্রবাসীরা এনআইডি সেবার জন্য আবেদন করতে পারবেন:
- যুক্তরাজ্য
- সৌদি আরব
- সংযুক্ত আরব আমিরাত
- মালয়েশিয়া
- সিঙ্গাপুর
- মালদ্বীপ
ভবিষ্যতে প্রবাসীদের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে আরও প্রায় ৪০টি দেশে এই সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনায় নির্বাচন কমিশন ২০১৯ সালে এই উদ্যোগ গ্রহণ করে এবং ২০২০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্যে অনলাইন ভোটার নিবন্ধনের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
শেষ কথা:
প্রবাসীদের জন্য এনআইডি প্রাপ্তি নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে, আবেদনে ভুলের কারণে দেশে ফিরে আসার বাধ্যবাধকতা প্রবাসীদের জন্য সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল হতে পারে। তাই, আবেদন করার সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা এবং প্রদত্ত তথ্য একাধিকবার যাচাই করে নেওয়া আবশ্যক। আশা করা যায়, ভবিষ্যতে প্রবাস থেকেই আবেদন সংশোধনের সুযোগ তৈরি করে এই প্রক্রিয়াকে আরও সহজতর করা হবে।