প্রযুক্তি তথ্য

ফেসবুক প্রোফাইলে ব্লু ব্যাজ নিন: মেটা ভেরিফায়েড (Meta Verified) করার সম্পূর্ণ গাইড (A to Z)

ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে ব্লু টিক বা ভেরিফায়েড ব্যাজ এখন আর শুধু সেলিব্রিটি বা বিখ্যাত ব্যক্তিত্বদের জন্য সীমাবদ্ধ নেই। মেটা ভেরিফায়েড (Meta Verified) নামক নতুন সাবস্ক্রিপশন সার্ভিসের মাধ্যমে যে কেউ চাইলেই নিজের প্রোফাইলকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পারেন। এটি একটি পেইড সার্ভিস, যেখানে মাসিক নির্দিষ্ট ফি-এর বিনিময়ে আপনার ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ব্লু ব্যাজ যুক্ত করা যায়।

যারা নতুন এবং এই প্রক্রিয়াটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান, তাদের জন্য আমাদের আজকের এই পোস্ট। এখানে আমরা ধাপে ধাপে আলোচনা করব, কীভাবে আপনি সহজেই আপনার প্রোফাইল ভেরিফাই করতে পারবেন।


মেটা ভেরিফায়েড (Meta Verified) কী?

মেটা ভেরিফায়েড হলো ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন সেবা। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা মাসিক ফি প্রদান করে তাদের আইডিতে একটি ব্লু ভেরিফিকেশন ব্যাজ পান। এই ব্যাজটি প্রমাণ করে যে, অ্যাকাউন্টটি মেটা দ্বারা যাচাইকৃত এবং এটি একজন প্রকৃত ব্যক্তির। এর ফলে অ্যাকাউন্টের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে এবং হ্যাকিং বা ছদ্মবেশ ধারণের ঝুঁকি কমে।


মেটা ভেরিফায়েড করার জন্য কী কী প্রয়োজন?

এই প্রক্রিয়া শুরু করার আগে কিছু জিনিস প্রস্তুত রাখা জরুরি। নিচে একটি চেকলিস্ট দেওয়া হলো:

১. আন্তর্জাতিক পেমেন্টের জন্য কার্ড:

আপনাকে অবশ্যই একটি ডুয়েল কারেন্সি কার্ড ব্যবহার করতে হবে, যা আন্তর্জাতিক লেনদেন (USD পেমেন্ট) সমর্থন করে। যেমন:

  • ডুয়েল কারেন্সি মাস্টারকার্ড (Mastercard)
  • ভিসা কার্ড (Visa Card)

বিশেষ দ্রষ্টব্য: কার্ডে অবশ্যই পর্যাপ্ত ডলার ব্যালেন্স থাকতে হবে।

২. সরকারি পরিচয়পত্র (Government-issued ID):

আপনার ফেসবুক প্রোফাইলের নাম ও জন্মতারিখের সাথে হুবহু মিল আছে, এমন একটি সরকারি পরিচয়পত্র লাগবে। গ্রহণযোগ্য ডকুমেন্টগুলো হলো:

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID Card/Smart Card)
  • পাসপোর্ট (Passport)
  • ড্রাইভিং লাইসেন্স (Driving License)

৩. ফেসবুক প্রোফাইলের সঠিক তথ্য:

ভেরিফিকেশনের আগে নিশ্চিত করুন যে আপনার প্রোফাইলের নিচের তথ্যগুলো আপনার সরকারি ডকুমেন্টের সাথে শতভাগ মিল রয়েছে:

  • প্রোফাইলের নাম
  • জন্মতারিখ (Date of Birth)
  • প্রোফাইল পিকচারে আপনার স্পষ্ট মুখমণ্ডল

মেটা ভেরিফাই করার ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া:

নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে আপনি সহজেই আপনার অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

ধাপ ১: ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লগইন করুন

প্রথমেই আপনার যে ফেসবুক আইডিটি ভেরিফাই করতে চান, সেটি ফেসবুক অ্যাপ বা ওয়েব ব্রাউজারে লগইন করুন।

ধাপ ২: “Meta Verified” অপশন খুঁজুন

  1. আপনার ফেসবুক প্রোফাইলের উপরের ডানদিকে থাকা তিনটি ডট (…) অথবা প্রোফাইল ছবিতে ক্লিক করে Settings & Privacy মেন্যুতে যান।
  2. এরপর Settings অপশনে ক্লিক করুন।
  3. সেখান থেকে Accounts Center-এ প্রবেশ করুন।
  4. Accounts Center-এর ভেতরেই আপনি Meta Verified অপশনটি দেখতে পাবেন। যদি অপশনটি না পাওয়া যায়, তবে বুঝতে হবে আপনার অ্যাকাউন্টের জন্য এখনো এটি চালু হয়নি। সেক্ষেত্রে কিছুদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে।

ধাপ ৩: সাবস্ক্রিপশন এবং পেমেন্ট

  1. Meta Verified অপশনে ক্লিক করলে আপনাকে সাবস্ক্রিপশন পেজে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে Subscribe বাটনে ক্লিক করুন।
  2. এরপর আপনাকে পেমেন্ট পেজে নিয়ে যাওয়া হবে। আপনার আন্তর্জাতিক কার্ডের (মাস্টারকার্ড/ভিসা) তথ্য দিয়ে পেমেন্ট সম্পন্ন করুন। সাধারণত মাসিক ফি $11.99 থেকে $14.99 পর্যন্ত হয়ে থাকে।

ধাপ ৪: পরিচয়পত্র আপলোড

পেমেন্ট সফল হওয়ার পর আপনাকে আপনার পরিচয়পত্র আপলোড করার জন্য একটি ফর্ম দেওয়া হবে।

  1. আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), পাসপোর্ট, বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের ছবি তুলে সাবমিট করুন।
  2. ফেসবুক আপনার দেওয়া তথ্য এবং ডকুমেন্টস যাচাই করবে। সকল তথ্য সঠিক থাকলে সাধারণত ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই আপনার প্রোফাইলে ব্লু ব্যাজ যুক্ত হয়ে যাবে।

এই পোস্ট থেকে কী কী জানতে পারলেন?

  • মেটা ভেরিফায়েড কী এবং এর সুবিধা।
  • ভেরিফিকেশনের জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস ও কার্ডের বিবরণ।
  • পেমেন্ট থেকে শুরু করে ডকুমেন্ট সাবমিট করা পর্যন্ত সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া।
  • যাচাই প্রক্রিয়া সম্পর্কে সঠিক ধারণা।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

  • কখনোই ভুয়া বা এডিট করা ডকুমেন্ট ব্যবহার করবেন না। এতে আপনার অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে সাসপেন্ড হয়ে যেতে পারে।
  • আবেদন করার আগে আপনার প্রোফাইলের নাম, জন্মতারিখ এবং ছবি আপনার সরকারি ডকুমেন্টের সাথে মিলিয়ে নিন।
  • কার্ডে পেমেন্টের জন্য পর্যাপ্ত ব্যালেন্স আছে কিনা, তা আগে থেকেই নিশ্চিত হয়ে নিন।

উপসংহার

মেটা ভেরিফিকেশন এখন আর কোনো জটিল বিষয় নয়। সঠিক নিয়মকানুন মেনে যে কেউ তার ফেসবুক প্রোফাইলকে আরও নিরাপদ ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পারেন। আপনি যদি আপনার অনলাইন পরিচিতিকে একটি পেশাদার রূপ দিতে চান, তাহলে মেটা ভেরিফায়েড সাবস্ক্রিপশন আপনার জন্য একটি দারুণ সুযোগ হতে পারে।

এই বিষয়ে আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানাতে পারেন। পোস্টটি আপনার কাছে উপকারী মনে হলে অবশ্যই শেয়ার করে অন্যদের জানার সুযোগ করে দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button