ইসলাম

ঈদুল আজহা ২০২৬ কত তারিখে?

আসসালামু আলাইকুম প্রিয় পাঠক,

প্রতি বছর মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন আসে—ঈদুল আযহা, যা “কোরবানির ঈদ” নামে অধিক পরিচিত। এটি শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; বরং আত্মত্যাগ, বিশ্বাস ও মানবিকতার প্রতীক। এই পবিত্র দিনে মুসলমানরা মহান আল্লাহর প্রতি তাদের আনুগত্য প্রকাশ করে এবং মানবজাতির প্রতি সহানুভূতি ও সংহতি প্রদর্শন করে।

এই ব্লগে আমরা ঈদুল আযহার গুরুত্ব, এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, কোরবানির অন্তর্নিহিত তাৎপর্য, ইসলামিক শর্ত ও নিয়মাবলী, এবং ২০২৬ সালের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

ঈদুল আযহার ইতিহাস

ঈদুল আযহার মূল উৎস নিহিত আছে মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর জীবনে। তাঁর ঈমান ও আল্লাহর প্রতি নিখাদ আনুগত্যের এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত হলো কোরবানির ঘটনা। তিনি স্বপ্নে আল্লাহর পক্ষ থেকে আদেশ পান তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বস্তু, অর্থাৎ তাঁর পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করার জন্য। এটি ছিল এক কঠিন পরীক্ষা, যা ইব্রাহিম (আ.)-এর বিশ্বাসকে চূড়ান্তভাবে যাচাই করার জন্য দেওয়া হয়েছিল।

ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহর আদেশে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি। তিনি তাঁর প্রিয় পুত্রকে কোরবানির জন্য প্রস্তুত হন। যখন তিনি আদেশ পালনে উদ্যত হন এবং ছুরি চালাতেই যান, তখন আল্লাহ তা’আলা তাঁর ত্যাগ ও আনুগত্য গ্রহণ করেন। তাৎক্ষণিকভাবে আল্লাহ তা’আলা তাঁকে একটি দুম্বা কোরবানি করার নির্দেশ দেন এবং ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে দুম্বাটিকে কোরবানি করা হয়।

এই ঘটনাই আজ বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের ঈমান, বিশ্বাস ও আত্মত্যাগের এক জ্বলন্ত উদাহরণ হিসেবে স্মরণীয়। এটি কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণের এক শাশ্বত শিক্ষা।

কেন কোরবানি দেওয়া হয়?

  • আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও কৃতজ্ঞতা: কোরবানি হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর আত্মত্যাগের স্মৃতিচারণ এবং আল্লাহর প্রতি আমাদের পূর্ণ আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ।
  • আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জন: কোরবানি কেবল পশু জবাই করা নয়, বরং আমাদের ভেতরের কুপ্রবৃত্তি, লোভ, অহংকার, হিংসা ইত্যাদি কোরবান করা।
  • সামাজিক সমতা ও ভ্রাতৃত্ব: কোরবানির মাংস তিন ভাগে ভাগ করার মাধ্যমে সমাজে সাম্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠিত হয়।
  • মানবতার সেবা: গরিব ও বঞ্চিত মানুষরাও ঈদের আনন্দে শরিক হতে পারে, এটি সামাজিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যম।

ইসলামিক শর্ত ও নিয়ম

কোরবানি দেওয়ার শর্তাবলী:

  • মুসলিম হতে হবে: কোরবানি শুধুমাত্র মুসলিমদের জন্য প্রযোজ্য।
  • প্রাপ্তবয়স্ক (বালেগ) হতে হবে: প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী মুসলিমদের উপর কোরবানি ওয়াজিব।
  • সুস্থ ও স্বাধীন হতে হবে: কোরবানি দাতাকে সুস্থ ও স্বাধীন হতে হবে।
  • নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হতে হবে: মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে কোরবানি ওয়াজিব।

কোরবানির পশুর শর্তাবলী:

  • নির্দিষ্ট বয়স: গরু/মহিষ ২ বছর, ছাগল/ভেড়া ১ বছর (বা দেখতে ১ বছরের সমান শক্তিশালী)।
  • সুস্থ ও ত্রুটিমুক্ত: কানা, খোঁড়া, অসুস্থ বা ত্রুটিপূর্ণ পশু কোরবানি করা যাবে না।

কোরবানির সময়: ঈদের নামাজের পর থেকে শুরু করে ১২ জিলহজ্জ সূর্যাস্ত পর্যন্ত। প্রথম দিন কোরবানি করা উত্তম।

মাংস ভাগ করার নিয়ম:

  • ১ ভাগ নিজের জন্য
  • ১ ভাগ আত্মীয়-স্বজনের জন্য
  • ১ ভাগ গরিব-দুস্থদের জন্য

২০২৬ সালে ঈদুল আযহার সম্ভাব্য তারিখ

বাংলাদেশে ঈদুল আযহা ২০২৬ সালের ২৭ মে (বুধবার) পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন চূড়ান্ত ঘোষণা দেবে।

আপনি চাইলে ঈদুল আযহা ২০২৫-এর শুভেচ্ছা, বাণী, উক্তি ও স্ট্যাটাস সম্পর্কিত আমাদের বিশেষ পোস্টটিও পড়ে নিতে পারেন।


বিগত বছরগুলোর ঈদ ক্যালেন্ডার

সাল তারিখ দিন ঈদ
2022 10 জুলাই রবিবার ঈদুল আযহা
2023 29 জুন বৃহস্পতিবার ঈদুল আযহা
2024 17 জুন সোমবার ঈদুল আযহা
2025 7 জুন শনিবার ঈদুল আযহা
2026 27 মে বুধবার ঈদুল আযহা

হাদিস থেকে জানা যায়

“আল্লাহ তোমাদেরকে এই দুই দিনের (জাহেলিয়াতের উৎসব) পরিবর্তে দিয়েছেন দুটি উত্তম দিন— ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা।” — (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ১১৩৪)

এই হাদিসটি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার গুরুত্ব তুলে ধরে এবং জাহেলিয়াতের উৎসবের পরিবর্তে এ দুটি শ্রেষ্ঠ দিনের মর্যাদা নির্দেশ করে।


শেষ কথা

ঈদুল আযহা আমাদের কেবল আত্মত্যাগ ও আনুগত্যের শিক্ষাই দেয় না, বরং এটি আমাদের মধ্যে সামাজিক সংহতি, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং মানবিকতার চেতনাকেও জাগ্রত করে। আসুন, এই ঈদে আমরা আত্মিক পরিশুদ্ধির মাধ্যমে নিজেদেরকে আরও উন্নত করি এবং সমাজের দুর্বলদের পাশে দাঁড়াই।

আপনি যদি এই পোস্টটি তথ্যবহুল মনে করেন, তাহলে দয়া করে বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করুন।

ঈদ মোবারক!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button