২০২৬ সালের রমজান ঈদ কত তারিখে?
সৌদি আরবের উম আল কুরা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ২০২৬ সালের রমজান মাস শুরু হতে পারে ১৮ ফেব্রুয়ারি, আর ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ২০ মার্চ ২০২৬। যদিও এসব তারিখ চূড়ান্ত নয়, কারণ ইসলামি মাস চাঁদ দেখার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।
রমজান মাস মুসলমানদের জন্য এক বিশেষ বরকতময় সময়। প্রতি বছর এই মাসটি ১০–১২ দিন আগেভাগে আসে ইংরেজি ক্যালেন্ডারে, যার ফলে দীর্ঘদিন পর ২০২৬ সালের রমজান শুরু হচ্ছে ফেব্রুয়ারিতে — অর্থাৎ শীতের ছোঁয়া থাকবে এবারের সিয়ামে।
সম্ভাব্য তারিখসমূহ (২০২৬ সাল)
| ধর্মীয় অনুষ্ঠান | সম্ভাব্য তারিখ | সপ্তাহের দিন |
|---|---|---|
| রমজান শুরু | ১৮ ফেব্রুয়ারি | বুধবার |
| ঈদুল ফিতর | ২০ মার্চ | শুক্রবার |
দ্রষ্টব্য: চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে এই তারিখ ১ দিন এগিয়ে বা পিছিয়ে যেতে পারে।
রমজান কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
রমজান মাস মুসলিম জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাসগুলোর একটি। এই মাসে কুরআন নাজিল হয়েছে এবং আল্লাহ তায়ালা এ মাসকে ইবাদতের জন্য বিশেষভাবে মর্যাদাপূর্ণ করেছেন।
আল-কুরআন: “রমজান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সঠিক পথনির্দেশনা।” – (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৮৫)
রমজানের বিশেষ ফজিলতসমূহ:
-
রোজার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি ও আত্মসংযম অর্জন
-
গুনাহ মাফের সুযোগ
-
তারাবি নামাজ ও কিয়ামুল লাইলের ফজিলত
-
কদরের রাত: হাজার মাসের চেয়েও উত্তম
রমজানের সময় বদলায় কেন?
ইসলামি ক্যালেন্ডার (হিজরি) হলো চন্দ্র-ভিত্তিক বর্ষপঞ্জি। এতে:
-
প্রতি মাস হয় ২৯ বা ৩০ দিনের
-
পূর্ণ বছর হয় ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিনের
-
ফলে ইংরেজি ক্যালেন্ডারের তুলনায় প্রতি বছর ১০–১২ দিন আগে আসে রমজান
২০২৫ সালে রমজান শুরু হয়েছিল ২ মার্চ। তাই ২০২৬ সালে সেটা এগিয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শীতকালীন রমজান: সহজ না কঠিন?
রমজান ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়ায় বাংলাদেশ সহ সৌদি আরবে থাকবে ঠাণ্ডার আবহাওয়া। এর ফলে:
-
দিন ছোট হবে – রোজার সময় তুলনামূলক কম
-
পিপাসা কম লাগবে – গরমের তুলনায় শরীর ঠাণ্ডা থাকবে
-
ইবাদতের জন্য বেশি স্বস্তি – ঘুম, নামাজ, কুরআন তিলাওয়াতে মনোযোগ সহজ হবে
তবে ঠাণ্ডায় কিছু সমস্যাও থাকতে পারে, যেমন:
-
ভোরে সেহরি খেতে উঠতে কষ্ট
-
গরম পানি ছাড়া ওজু করতে অসুবিধা
তবুও সারা বিশ্বের মুসলমানরা শীতের রমজানকে বেশি আরামদায়ক মনে করেন।
২০২৬ সালের রমজান ঈদ কত তারিখে?
রমজান শেষ হলে উদযাপিত হয় ঈদুল ফিতর – মুসলমানদের সবচেয়ে বড় আনন্দের দিন।
২০২৬ সালে সম্ভাব্য ঈদের দিন: ২০ মার্চ, শুক্রবার।
ঈদ মানে:
-
আত্মার পবিত্রতা উদযাপন
-
ধনী-গরিব সকলের মাঝে আনন্দ ভাগাভাগি
-
ঈদ জামাত, কোলাকুলি, সাদাকা-ফিতর
🗓 ইসলামি ক্যালেন্ডার বনাম ইংরেজি ক্যালেন্ডার
| বৈশিষ্ট্য | হিজরি (ইসলামি) ক্যালেন্ডার | ইংরেজি ক্যালেন্ডার |
|---|---|---|
| ভিত্তি | চাঁদের গতিপথ | সূর্যের গতিপথ |
| মাস সংখ্যা | ১২ | ১২ |
| মাসের দৈর্ঘ্য | ২৯ বা ৩০ দিন | ৩০, ৩১ (ফেব্রুয়ারিতে ২৮/২৯) |
| বছরে দিন | ৩৫৪ বা ৩৫৫ | ৩৬৫ বা ৩৬৬ |
| ধর্মীয় উৎসব নির্ধারণ | চাঁদ দেখার মাধ্যমে | নির্ধারিত তারিখে |
এই কারণেই প্রতি বছর রমজান, ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহার তারিখ ইংরেজি বর্ষপঞ্জিতে পরিবর্তিত হয়।
মুসলিম বিশ্বের প্রস্তুতি
রমজান ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মুসলিম বিশ্বে শুরু হয় প্রস্তুতি:
-
মসজিদে তারাবি ও ইতিকাফের পরিকল্পনা
-
খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণ ও বাজারে কেনাকাটা
-
দান-সদকা এবং ফিতরা নির্ধারণ
-
কর্মক্ষেত্রে ছুটির পরিকল্পনা ও পরিবর্তিত সময়সূচি
প্রশ্নোত্তর (FAQ)
১. রমজান ২০২৬ সালে কবে শুরু হবে?
সৌদি আরবের উম আল কুরা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৮ ফেব্রুয়ারি। তবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করবে।
২. ঈদুল ফিতর কবে হতে পারে?
সম্ভাব্য তারিখ ২০ মার্চ ২০২৬। এক দিন আগেও হতে পারে।
৩. কেন রমজান প্রতি বছর আগে আসে?
হিজরি বছর চন্দ্র মাসের ওপর ভিত্তি করে, যা ১১ দিন ছোট হয় গ্রেগোরিয়ান বর্ষপঞ্জির তুলনায়।
৪. শীতকালে রোজা রাখা সহজ কি?
অনেকের মতে, ঠাণ্ডায় পিপাসা কম লাগায় এবং দিন ছোট হওয়ায় রোজা রাখা তুলনামূলক সহজ।