প্রযুক্তি তথ্য

একজন গ্রাহকের জন্য সর্বোচ্চ ১০টি সিম: বিটিআরসির নতুন নির্দেশনা ও কী করবেন এখন

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ঘোষণা করেছে যে, এখন থেকে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ১০টি মোবাইল সিম ব্যবহার করতে পারবেন। অতিরিক্ত সিম থাকলে, নভেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে সেগুলো ধাপে ধাপে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হবে।

🔍 কেন নেওয়া হলো এই সিদ্ধান্ত?

সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অতিরিক্ত সিম ব্যবহার করে প্রতারণা, চাঁদাবাজি ও নম্বর ক্লোনের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে গেছে। এসব প্রতারণা ঠেকাতেই বিটিআরসি এই সীমা নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে।

📊 কী বলছে পরিসংখ্যান?

  • ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট সক্রিয় সিম: ১৮ কোটি ৬২ লাখ
  • প্রকৃত গ্রাহক সংখ্যা: প্রায় ৬ কোটি ৭৫ লাখ
  • ৫টির কম সিম ব্যবহার করেন: ৮০% গ্রাহক
  • ৬-১০টি সিম ব্যবহার করেন: ১৬%
  • ১১টির বেশি সিম আছে: মাত্র ৩% গ্রাহকের নামে

📅 কবে থেকে কার্যকর হবে সীমা?

আগামী ১ আগস্ট ২০২৫ থেকে শুরু করে নভেম্বরের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। গ্রাহকদের ৩ মাস সময় দেওয়া হবে নিজের অপ্রয়োজনীয় সিমগুলো নিজ উদ্যোগে বাতিল করার জন্য।

📝 কীভাবে জানবেন আপনার নামে কয়টি সিম?

বিটিআরসি মোবাইল অপারেটরদের মাধ্যমে গ্রাহকদের একটি তালিকা দেবে যেখানে উল্লেখ থাকবে – আপনার নামে মোট কতটি সিম নিবন্ধিত।

যাদের নামে ১০টির বেশি সিম থাকবে, তাদের সঙ্গে অপারেটররা সরাসরি যোগাযোগ করবে এবং জানতে চাওয়া হবে – কোন ১০টি সিম সচল রাখতে চান।

🎯 কোন সিমগুলো অগ্রাধিকার পাবে?

  • যেসব সিম নিয়মিত ব্যবহৃত
  • মোবাইল ব্যাংকিং-এর সঙ্গে যুক্ত সিম
  • অফিশিয়াল বা ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহৃত সিম

📌 অতিরিক্ত সিম কীভাবে বাতিল করবেন?

প্রত্যেক অপারেটর তাদের নিজস্ব পোর্টাল, অ্যাপ ও সেবা কেন্দ্রে অতিরিক্ত সিম বাতিলের সুযোগ দেবে। গ্রাহক চাইলে নিজের অপ্রয়োজনীয় নম্বরগুলো স্বেচ্ছায় নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারবেন।

📢 বিটিআরসির বক্তব্য

বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ এমদাদ উল বারী বলেন, “মানুষের ভোগান্তি যেন না হয়, সে কারণে সময় নিয়ে ধাপে ধাপে এই কাজটি করা হবে।”

📚 অতীত প্রেক্ষাপট

  • ২০১৭ সালে সর্বোচ্চ সিম সীমা ছিল: ১৫টি
  • ২০২২ সালে সিম নিবন্ধন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়, কিন্তু সিম সীমা নির্ধারণ করা হয়নি

🔐 আপনার করণীয়

  1. আপনার নামে কতটি সিম আছে, তা যাচাই করুন
  2. অপ্রয়োজনীয় সিম নির্ধারণ করে আগেভাগে বাতিল করুন
  3. মোবাইল ব্যাংকিং ও জরুরি কাজে ব্যবহৃত নম্বর সচল রাখুন
  4. আপনার অপারেটরের অ্যাপ বা কাস্টমার কেয়ার থেকে সহায়তা নিন

📌 উপসংহার

বাংলাদেশে মোবাইল সিম ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনার জন্য এই উদ্যোগ গ্রাহক নিরাপত্তা ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সচেতনতা ও আগেভাগে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এ প্রক্রিয়ায় কোনো অসুবিধা হবে না।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button