Tottho Apa Project: তথ্য আপা প্রকল্পের ভবিষ্যৎ

২০১১ সালে শুরু হওয়া “তথ্য আপা” প্রকল্পটি দেশের গ্রামীণ সুবিধাবঞ্চিত নারীদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির (ICT) মাধ্যমে ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে কাজ করে আসছে। বর্তমানে, দেশের ৪৯২টি উপজেলায় তথ্যসেবা কর্মকর্তা ও সহকারী তথ্যসেবা কর্মকর্তারা এই প্রকল্পের অধীনে কাজ করছেন।
তবে ২০২৫ সালের জুন মাসে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা এবং এরপর এটি জাতীয় মহিলা সংস্থার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে — এমন ঘোষণা থাকলেও প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।
চাকরি হারানোর শঙ্কায় প্রায় ২,০০০ কর্মী
প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার ফলে প্রায় ২,০০০ কর্মী সরাসরি চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে তারা নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন না এবং চাকরির স্থায়িত্ব নিয়ে আশঙ্কায় আছেন।
কর্মীদের দাবি, “তথ্য আপা” প্রকল্পকে সরকারি রাজস্বখাতে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
প্রকল্পের ভবিষ্যৎ: কি থাকবে, কি থাকবে না?
- প্রকল্পের ওয়েব পোর্টাল, অনলাইন কার্যক্রম, তথ্যভাণ্ডার এবং কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি জাতীয় মহিলা সংস্থার তত্ত্বাবধানে হস্তান্তর করা হবে।
- তবে, প্রকল্পের মানবসম্পদ বা কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা বা নিশ্চয়তা এখনো পাওয়া যায়নি।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, প্রকল্পের কর্মীরা সরকারের কাছে তাদের চাকরি স্থায়ীকরণ এবং রাজস্বখাতে অন্তর্ভুক্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানাচ্ছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সেবাদানকারী এই অভিজ্ঞ কর্মীদের ছাঁটাই না করে সরকার যদি তাদের নিয়মিত কর্মী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে, তাহলে প্রকল্পের অর্জন আরও টেকসই হবে।
“তথ্য আপা” প্রকল্পটি বাংলাদেশের ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি ও নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তবে প্রকল্পের সমাপ্তি এবং এর ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো নীতিগত ঘোষণা না থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্মীরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সরকারের কার্যকর সিদ্ধান্ত ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উপর।