Gold Price in Bangladesh – স্বর্ণের দাম আপডেট জুলাই ২০২৫

জুলাই ২০২৫ এর শুরুতে বাংলাদেশের বাজারে সোনার দামে কিছুটা অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা, মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার এবং স্থানীয় চাহিদা ও সরবরাহের প্রেক্ষাপটে জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করে থাকে।
চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ের মতো জুন মাসেও সোনার দাম ক্রেতা এবং বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। মাসের শুরুতে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো।
জুলাই ২০২৫ এর সর্বশেষ সোনার দর (প্রতি ভরি)
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) কর্তৃক মাসের শুরুতে (সাধারণত ৪ বা ৫ জুনের কাছাকাছি সময়ে) ঘোষিত দর অনুযায়ী বিভিন্ন ক্যারেটের সোনার আনুমানিক মূল্য নিম্নরূপ:
- ২২ ক্যারেট (হলমার্ক): প্রায় ১,৩৯,০২৩ টাকা থেকে ১,৬৯,৯২১ টাকার মধ্যে (বিভিন্ন সূত্র ও ঘোষণার সময় অনুযায়ী দামে তারতম্য দেখা গেছে)। মে মাসের শেষের দিক থেকে জুনের শুরুতে দামে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে।
- ২১ ক্যারেট (হলমার্ক): আনুমানিক ১,৩২,০০১ টাকা থেকে ১,৬২,২০০ টাকার মধ্যে।
- ১৮ ক্যারেট (হলমার্ক): আনুমানিক ১,১৩,১৪১ টাকা থেকে ১,৩৯,০২৩ টাকার মধ্যে।
- সনাতন পদ্ধতির সোনা: আনুমানিক ৯২,৮৬৯ টাকা থেকে ১,১৪,৯৪৯ টাকার মধ্যে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: উল্লেখিত দামসমূহ বাজুস কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এবং এগুলো পরিবর্তনশীল। জুয়েলারি কেনার সময় এই মূল্যের সাথে মজুরি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভ্যাট সংযুক্ত হবে। সবচেয়ে হালনাগাদ তথ্যের জন্য আপনার নিকটস্থ অনুমোদিত জুয়েলারি শোরুমে যোগাযোগ করার পরামর্শ রইলো।
সোনার দামের পরিবর্তনের নিয়ামকসমূহ
বাংলাদেশের বাজারে সোনার দাম কয়েকটি প্রধান দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল:
- আন্তর্জাতিক বাজার: বিশ্বব্যাপী সোনার দামের যেকোনো পরিবর্তন বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে। প্রধান অর্থনীতির দেশের মুদ্রানীতি, মূল্যস্ফীতি, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বড় ধরনের অর্থনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ আন্তর্জাতিক সোনার দামকে প্রভাবিত করে।
- ডলার-টাকা বিনিময় হার: সোনা একটি আমদানি নির্ভর পণ্য হওয়ায় মার্কিন ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশী টাকার মূল্যের পরিবর্তন সোনার দামকে সরাসরি প্রভাবিত করে। ডলার শক্তিশালী হলে সাধারণত সোনার দাম বৃদ্ধি পায়।
- স্থানীয় চাহিদা ও যোগান: দেশে বিয়ে ও উৎসবের মৌসুমে সাধারণত সোনার চাহিদা বৃদ্ধি পায়। এই বর্ধিত চাহিদা সোনার দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া, পুরনো সোনা বিক্রি এবং নতুন সোনা আমদানির মাত্রাও দামকে প্রভাবিত করে।
- সরকারি নীতি ও শুল্ক কাঠামো: সোনা আমদানির ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক আরোপিত শুল্ক এবং অন্যান্য কর সোনার দাম নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই সংক্রান্ত কোনো পরিবর্তন হলে সোনার দামে তারতম্য দেখা যায়।
- বাজুসের মূল্য নির্ধারণ: বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতা এবং অন্যান্য প্রভাবক বিশ্লেষণ করে নিয়মিতভাবে সোনার দাম সমন্বয় ও ঘোষণা করে।
২০২৫ সালে সোনার বাজারের গতিপ্রকৃতি
২০২৫ সালের শুরু থেকে সোনার বাজারে বেশ কয়েকবার দামের উল্লেখযোগ্য হ্রাস-বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক চলকগুলোর কারণে এই পরিবর্তন এসেছে। বিনিয়োগের নিরাপদ ক্ষেত্র হিসেবে সোনার আকর্ষণ থাকলেও, এর দামের পরিবর্তনশীলতা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও সতর্কতা
জুন মাস এবং তৎপরবর্তী সময়ে সোনার দাম কেমন থাকবে তা মূলত উপরে উল্লেখিত নিয়ামকগুলোর সামগ্রিক অবস্থার ওপর নির্ভর করবে। অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিশ্ব অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি এবং স্থানীয় মুদ্রানীতি সোনার বাজারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
যেহেতু সোনার দাম একটি পরিবর্তনশীল বিষয়, তাই যেকোনো ধরনের লেনদেন বা বিনিয়োগের পূর্বে সর্বশেষ বাজারদর সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া আবশ্যক। নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করে এবং বাজুসের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে লক্ষ্য রেখে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত।