ই-সেবা

অনলাইনে ই-টিন সার্টিফিকেট রেজিস্ট্রেশন করার সহজ নিয়ম (২০২৫)

বর্তমানে বাংলাদেশে যেকোনো ব্যবসা কিংবা ব্যক্তিগত ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (TIN) নেওয়ার প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল হয়ে গেছে। আপনি এখন ঘরে বসেই কয়েকটি ধাপে অনলাইনেই পেয়ে যেতে পারেন আপনার ই-টিন সার্টিফিকেট (E-TIN Certificate)

এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করবো, কীভাবে খুব সহজেই অনলাইনে ই-টিন সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করবেন এবং কোন কোন তথ্য ও ডকুমেন্ট লাগবে।


🧾 ই-টিন (E-TIN) কী?

ই-টিন হচ্ছে “ইলেকট্রনিক ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার”, যা বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) থেকে অনলাইনের মাধ্যমে প্রদান করা হয়। এটি একটি ডিজিটাল সার্টিফিকেট, যার মাধ্যমে আপনি করদাতা হিসেবে নিবন্ধিত হোন।

ব্যবসা শুরু করা, ব্যাংক একাউন্ট খোলা, ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া বা সরকারি কোনো সুবিধা গ্রহণের জন্য এখন টিন সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক।


📋 ই-টিন সার্টিফিকেট রেজিস্ট্রেশনে যা যা লাগবে:

আপনার আবেদন সফল করতে নিচের ডকুমেন্টগুলো প্রস্তুত রাখুন:

  • জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট কপি

  • মোবাইল নম্বর (যেখানে OTP যাবে)

  • ইমেইল অ্যাড্রেস

  • ব্যবসার ক্ষেত্রে:

    • ট্রেড লাইসেন্স

    • ইনকর্পোরেশন সার্টিফিকেট (যদি কোম্পানি হয়)

    • মেমোরেন্ডাম ও আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশন

    • ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট

ই-টিন সার্টিফিকেট রেজিস্ট্রেশন ধাপে ধাপে

(১) একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করুন

👉 ভিজিট করুন incometax.gov.bd
👉 রেজিস্ট্রেশন মেনুতে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিন:

  • নাম (ইউজারনেম হিসেবে)

  • পাসওয়ার্ড

  • সিকিউরিটি কোয়েশ্চেন ও উত্তর

  • মোবাইল নম্বর ও ইমেইল

(২) মোবাইলে পাওয়া OTP কোড দিয়ে একাউন্ট ভেরিফাই করুন

(৩) লগইন করুন

আপনার ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে ওয়েবসাইটে লগইন করুন।

(৪) নতুন টিন রেজিস্ট্রেশন শুরু করুন

👉 ড্যাশবোর্ডে গিয়ে “New Registration” বাটনে ক্লিক করুন।

👉 নির্বাচন করুন:

  • ব্যক্তি/ব্যবসা/প্রতিষ্ঠান অনুযায়ী ধরন

  • রেজিস্ট্রেশন টাইপ (New)

  • আয়ের উৎস

👉 জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী:

  • নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মা ও স্ত্রী/স্বামীর নাম

  • ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য

👉 সমস্ত তথ্য পূরণ করে সাবমিট করুন।

ই-টিন সার্টিফিকেট ডাউনলোড করবেন যেভাবে

একবার আবেদন সফলভাবে সম্পন্ন হলে আপনি “New Certificate” অপশন থেকে আপনার ই-টিন সার্টিফিকেট PDF ফরম্যাটে ডাউনলোড করতে পারবেন এবং প্রয়োজনে প্রিন্ট নিতে পারবেন।

গুরুত্বপূর্ণ টিপস:

  • মোবাইল নম্বরটি মনে রাখুন—এটি ভবিষ্যতে রিকভারির জন্য দরকার হতে পারে।

  • সব তথ্য ইংরেজিতে লিখুন।

  • ভুয়া তথ্য দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করলে সার্টিফিকেট বাতিল হতে পারে।

ই-টিন সার্টিফিকেট এখন খুব সহজেই ঘরে বসেই তৈরি করা যায়। এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানলে আপনি নিজেই নিজের টিন সার্টিফিকেট তৈরি করতে পারবেন—কোনো দালাল বা বাড়তি খরচ ছাড়া। সরকারি নিয়ম মেনে নিজেকে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে আজই রেজিস্ট্রেশন করে ফেলুন!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button