নির্বাচনের জামানত কী, কেন বাজেয়াপ্ত হয়?

সদ্য সমাপ্ত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
এ নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল ক্ষমতাসীন দলের নৌকা প্রতীক, স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং জাতীয় পার্টির
প্রার্থীদের মধ্যে। তবে ভোটের ফলাফলে দেখা যায়, অনেক আসনেই প্রার্থীরা প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ভোট না
পাওয়ায় জামানত রক্ষা করতে পারেননি।
নির্বাচনের জামানত কী?
নির্বাচনের জামানত হলো প্রার্থিতা নিশ্চিত করার জন্য নির্ধারিত একটি আর্থিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে প্রার্থীকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হয়।
এই অর্থ জমাদানের প্রমাণ হিসেবে ট্রেজারি চালান, তফসিলি ব্যাংকের পে-অর্ডার অথবা পোস্টাল অর্ডার
দাখিল করতে হয়।
কেন জামানত বাজেয়াপ্ত হয়?
নির্বাচনি বিধান অনুযায়ী, কোনো নির্বাচনী এলাকায় প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের
সাড়ে ১২ শতাংশ (১২.৫%) ভোট যদি কোনো প্রার্থী না পান, তাহলে তার জামানতের টাকা
বাজেয়াপ্ত হয়। এই শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় এবারের নির্বাচনেও বহু প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছেন।
কিছু আসনে এমন ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীরাও জামানত ফেরত পাওয়ার মতো ভোট পাননি।
বিভিন্ন নির্বাচনে জামানতের পরিমাণ
- জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ২৫ হাজার টাকা
- উপজেলা পরিষদ নির্বাচন: ১০ হাজার টাকা
পৌরসভা নির্বাচনে ভোটারসংখ্যা অনুযায়ী জামানত
- অনধিক ২৫ হাজার ভোটার: ১৫ হাজার টাকা
- ২৫ হাজার ১ থেকে ৫০ হাজার ভোটার: ২০ হাজার টাকা
- ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ভোটার: ২৫ হাজার টাকা
- ১ লাখের বেশি ভোটার: ৩০ হাজার টাকা
- কাউন্সিলর প্রার্থী: ৫ হাজার টাকা
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে
- চেয়ারম্যান পদে: ৯ হাজার ৫০০ টাকা
- সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে: ১ হাজার টাকা
বাজেয়াপ্ত অর্থ কোথায় যায়?
নির্বাচন শেষে নির্বাচন কমিশন জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থীদের একটি তালিকা প্রস্তুত করে।
এই তালিকা অনুযায়ী বাজেয়াপ্ত অর্থ অ্যাকাউন্টেন্ট জেনারেলের কার্যালয়ের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে
জমা হয়।
আর যেসব প্রার্থী প্রয়োজনীয় ভোট পেয়ে জামানত রক্ষা করতে সক্ষম হন, তারা গেজেট প্রকাশের পর
নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের মাধ্যমে তাদের জামানতের টাকা ফেরত নিতে পারেন।
তবে জামানত ফেরত পাওয়ার যোগ্য হয়েও বাস্তবে কতজন প্রার্থী সেই টাকা তুলতে আবেদন করেন,
সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই।
প্রতিটি নির্বাচনের মতো এবারও জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঘটনা আলোচনায় এসেছে, যা নির্বাচনে
ন্যূনতম জনসমর্থনের গুরুত্বকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।